“টাকার অভাবে ওষুধ খাইবার পারিনা”
আমানুল্লাহ আসিফ মীর, স্টাফ রিপোর্টার:
আড়াই বছর ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকার নূর জাহান বেগম (২৭)। টাকার অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার। ডাক্তার দেখানো তো দূরের কথা দৈনন্দিন অপরিহার্য ওষুধ কেনার মতো সামর্থ্যও নেই এই অসহায়ের।
সূত্র জানায়, উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকার আব্দুল মুন্নাফের মেয়ে নূর জাহান বেগমের বিয়ে হয়েছিল পৌরসভাধীন নামা ছিটপাড়া মহল্লার রিকশাচালক রফিকুল ইসলামের সাথে। বেশ কিছুদিন তাদের সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ করে কিডনি রোগে আক্রান্ত হন নূর জাহান। সুখের সংসার হয়ে যায় এলেমেলো। আড়াই বছর ধরে এই রোগের চিকিৎসা করতে করতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন স্বামী রফিকুল ইসলাম।
চার বছরের একটি বাচ্চাসহ ৪ জনের সংসার রফিকুলের। পেটের ভাতের খরচ আয় করতেই যে হিমশিম খাচ্ছে, সে কি করে স্ত্রীর ব্যয়বহুল চিকিৎসা করবে? তার স্ত্রীর কিছু হয়ে গেলে ছোট্ট বাচ্চাটার কি হবে? হাল ছাড়েননি তিনি, শ্বশুরের সহযোগিতায় চলমান রেখেছিলেন স্ত্রীর চিকিৎসা। বর্তমানে স্বামীর বাড়ির পাশাপাশি বাবার বাড়িতেও থাকে নূর জাহান।
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মাসে ৬-৭ হাজার টাকার ওষুধ লাগে তার। তবে এবার বাবার পক্ষ থেকেও চিকিৎসা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নূর জাহানের ভবিষ্যত!
প্রতি মাসে কোন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা পেলে বাঁচার আশা করতে পারতেন তিনি।
নূর জাহান বেগম কাঁদতে কাঁদতে এই প্রতিবেদককে বলেন, “টাকার অভাবে ওষুধ খাইবার পারিনা। ডাক্তার বলছে নিয়মিত চেকাপ না করলে অথবা ওষুধ মিস দিলে বড় কোন বিপদ ঘটবার পারে। ছোট্ট বাচ্চাসহ সংসারের খানা খরচ রোজগার করাই কঠিন। প্রতি মাসে মেলা টেহার ওষুধ লাগে ডাক্তারের ভিজিট তো আছেই, কই পামু এতে টেহা?”
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।