আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু : উপমহাদেশের দেশগুলোর স্বাধীনতা লাভের বয়সের তুলনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। ৫৫ বছর বয়সী বাংলাদেশে এযাবত রাষ্ট্রপতির পদ অলঙ্করণ করেছেন ১৬ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ শোভিত করেছেন ১০ জন (এই দশজনের মধ্যে একজন ৫ মেয়াদে এবং একজন ৩ মেয়াদে প্রধামন্ত্রী ছিলেন)। এছাড়া চারজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে একজন করছেন।
ভারতের স্বাধীনতার বয়স ৭৮ বছর। ১৯৪৭-৫০ মেয়াদে ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। এরপর থেকে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ১৫ জন (অবশ্য দায়িত্বে থাকাকালে তিনজন রাষ্ট্রপতির মৃত্যুজনিত কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনজন উপরাষ্ট্রপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পদ সামাল দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ১৫ জন। (নেহরু ৪ মেয়াদ, ইন্দিরা গান্ধী ৪ মেয়াদ, রাজীব গান্ধী ২ মেয়াদ, বাজপেয়ী ৩ মেয়াদ, মনমোহন সিং ২ মেয়াদ এবং মোদি ৩ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন)।
পাকিস্তানের স্বাধীনতার বয়সও ৭৮ বছর। পাকিস্তানে ১৯৪৭-৫৬ মেয়াদে চারজন গভর্নর জেনারেল ছিলেন। ১৯৫৬ সালে দেশটির প্রথম সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন ২০ জন। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন ২৪ জন (মাশাআল্লাহ!)। একজন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ছিল সর্বনিম্ন, মাত্র ১৩ দিবস। এই ১৩টি দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আসন গরম করে রাখা ব্যক্তিটি ছিলেন নূরুল আমিন নামে একজন বাঙালি। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া এক মাস, দু’মাস করে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আরো বেশ ক’জন। তাদের অনেককে প্রেসিডেন্ট বা সেনা প্রধানের ধমকে পদ ছাড়তে হয়েছে। কারও আশ্রয় হয়েছে কারাগারে।
তবে তিনটি দেশের স্বাধীনতার লাভের সময় থেকে হিসাব করলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শীর্ষ দুটি পদ অলঙ্করণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বহু ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টিকারী মাতৃভূমির এটাও একটি রেকর্ড। আলহামদুলিল্লাহ! তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আকারে ও জনসংখ্যায় ছোট। কিন্তু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এসব পদে যোগ্য ব্যক্তির কোনো ঘাটতি নেই।