আমানুল্লাহ আসিফ মীর , স্টাফ রিপোর্টার: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মোড়কে ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) বাধ্যতামূলক করে প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি জানিয়েছে সবুজবাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল আলীম জানান, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার ও পানীয়র মোড়কে এসব উপাদান গ্রহণসংক্রান্ত সতর্কবার্তা প্রদানের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং সে অনুযায়ী একটি নকশার চূড়ান্ত খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ—অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। চমকপ্রদ বিপণন কৌশল, দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব পণ্য গ্রহণের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়তে ব্যবহৃত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য তথ্য প্রদান অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাসে একটি কার্যকর ও প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। তাই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিধান প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সংস্থাটির মতে, খাদ্য মোড়কে সতর্কবার্তা সংযোজন করা হলে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাদ্য গ্রহণে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে। এ প্রেক্ষিতে ফ্রন্ট-অফ প্যাকেজ লেবেলিং (FOPL) অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ দাবির অংশ হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি বুধবার সবুজবাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থাসহ সমমনা সংগঠন—দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, সুনীতি সংঘ ও যায়তুন চ্যারিটি বিডির নির্বাহী প্রধানগণ এবং জনপ্রতিনিধিদের একটি দল শেরপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবিতে একটি অনুরোধপত্র জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চেয়ারম্যান বরাবর হস্তান্তর করা হয়।
সবুজবাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে।