মিঠুন মিয়া, প্রতিনিধি:
প্রকৃতিতে এখন পৌষের রাজত্ব। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে উত্তরের জনপদ। শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নালিতাবাড়ী উপজেলা আজ সকাল থেকেই ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। শুভ্র কুয়াশা ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে ভোরের সূর্য, যা গ্রামীণ জীবনে নিয়ে এসেছে স্নিগ্ধ ও শান্ত সজীবতা।
আজ মঙ্গলবার,৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ভোরের আলো ফোটার অনেক আগে থেকেই নালিতাবাড়ীর প্রকৃতি সেজেছে মায়াবী রূপে। চারদিকে সাদা মেঘের ভেলার মতো “কুয়াশায়” ঢেকে গেছে। দৃষ্টিসীমার সামান্য দূরেও কিছু দেখা দায় হয়ে পড়েছে। মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।
ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু সূর্যের আলোয় মুক্তার মতো চিকচিক করছে।
শীতের এই সকালে গ্রামীণ জনজীবনে দেখা গেছে ভিন্নরকম আমেজ। হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। পথচারী ও স্থানীয়দের গায়ে শোভা পাচ্ছে সোয়েটার, চাদর ও জ্যাকেটের মতো নানা রঙের গরম কাপড়। কেউ কেউ রাস্তার মোড়ে চায়ের ধোঁয়ায় শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর দৃশ্যও চোখে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, গারো পাহাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের প্রকোপ সমতলের তুলনায় কিছুটা বেশি অনুভূত হয়। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে সকালের দিকে ঠান্ডা বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের দেখা মিললে স্বস্তি ফেরে জনমনে। প্রকৃতির এই পালাবদল ছোট-বড় সবার মাঝেই তৈরি করেছে শীতের আবহ।
কুয়াশার চাদরে মোড়া এবং হিমেল বাতাসে নালিতাবাড়ীর আজকের সকাল অন্যরকম এক ক্যানভাসে আঁকা জীবন্ত ছবির প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতির এই রুদ্র ও শান্ত রূপ একই সাথে মুগ্ধ করছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। শীতের এই তীব্রতা জানান দিচ্ছে ঋতুচক্রে পৌষ এখন তার আপন মহিমায় উপস্থিত।