আমানুল্লাহ আসিফ মীর, স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমস্যার শেষ নেই। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। শুধু সেবাগত সমস্যায় নয় ডাক্তার ও কর্মচারীদের কটাক্ষ আচরণেও রোগীদের মাঝে রয়েছে বিরক্তির উদ্রেক। ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক আইটেমের ওষুধ সরবরাহ থাকলেও ওমিপ্রাজল, প্যারাসিটামল ছাড়া তেমন কোন ওষুধ পান না বহির্বিভাগে আসা সাধারণ রোগীরা। পরীক্ষার মেশিনগুলোও হয়ে আছে অচল, আবার যে কয়টা পরীক্ষা চালু আছে সেগুলোতেও নির্দিষ্ট ফি এর চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন টানাটানিসহ নানাভাবে ডিস্টার্ব করে। শুধু তাই নয় হাসপাতালে রোগী বসিয়ে রেখে ডাক্তারদের সঙ্গে গিফট বিনিময় করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এসব অভিযোগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবগত করলেও নেওয়া হয়নি পদক্ষেপ।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ৯ বছরেও চালু হয়নি সিজারিয়ান ডেলিভারিসহ নানা সেবা ব্যবস্থা। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৭ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে রয়েছেন ৪ জন। ১০ জন কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ২ জন। রয়েছে সহকারী সার্জন, এনেসথেশিয়া, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট। রয়েছে ওষুধের ঘাটতি, চাহিদার চেয়ে অনেক কম সরবরাহ করা হয় প্রাথমিক অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোও। অনেক দিনের পুরনো এনালগ এক্সরে মেশিনটি সচল থাকলেও রয়েছে চরম ফিল্ম সংকট। বেসরসকারী উদ্যোগে ব্র্যাক এর পক্ষ থেকে একটি ডিজিটাল পোর্টেবল মেশিন হাসপাতালে স্থাপন করা হলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় এ মেশিনটিও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। একমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের প্রিন্টার নষ্ট হওয়ায় বন্ধ রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাম। নারী টেকনিশিয়ান না থাকায় ইসিজি করতে এসে ফিরে যান অসংখ্য নারী রোগী। ফলে টেকনিশিয়ান, এক্সরে ফিল্ম ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন জরুরী হয়ে পড়েছে হাসপাতালটিতে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের পর থেকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ না থাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তা প্রহরীসহ নানা জনবল সংকট রয়েছে। ফলে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রয়েছে রোগীদের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে খাবারের মান নিয়েও। সরকারীভাবে দেওয়া তিনটি এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে দুটিই।
সেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক-দেড়শ টাকা ভাড়া দিয়ে সরকারী হাসপাতালে আসেন বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিতে। কিন্তু এখানে আসার পর ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন করে প্যারাসিটামল, আয়রণ, ওমিপ্রাজল ও এন্টাসিড জাতীয় ট্যাবলেড দিয়ে বাকী ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খেতে পরামর্শ দেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা জানান, মোটা চালের ভাতে বয়েলের গন্ধে পাওয়া যায়। পাঙ্গাস মাছে হলুদের যে ঝুল দেওয়া হয় তা খাওয়ার উপযোগী না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ তৌফিক আহমেদ জানান, চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট রয়েছে। এ সংকটের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নিতে।