স্টাফ রিপোর্টার:শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খরখরিয়াকান্দা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৮ বছর বয়সী এতিম সাইফুল ইসলাম সুপারি গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। শরীরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ক্ষত, যেখান থেকে মাংস খুলে পড়ছে। অসহনীয় যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত ছটফট করলেও বাঁচার আকুতি তার চোখে-মুখে স্পষ্ট—আমি বাঁচতে চাই…কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো—অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হওয়ার পথে।
পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। সাইফুলের মা ফজিলা খাতুন বহু আগেই মারা গেছেন। বাবা ফয়েজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। উপার্জনের কোনো সক্ষম ব্যক্তি না থাকায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছে তার বড় বোন ফেরদৌসি খাতুন (২৪)-এর ওপর।
একদিকে অসুস্থ বাবা, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা ভাই—দুইজনকে নিয়ে একা সংগ্রাম করছেন তিনি। কখনো ভাইয়ের ক্ষত পরিষ্কার করছেন অশ্রুসজল চোখে, কখনো বাবাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। নিজের কষ্ট চাপা দিয়ে অবিরাম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই অসহায় তরুণী।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে সাইফুলকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জীবন আরও ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নালিতাবাড়ীসহ দেশের সকল মানবিক ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি জরুরি আবেদন জানানো হচ্ছে—
একটু সহানুভূতি ও সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিন।