স্টাফ রিপোর্টার: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নে ‘সহজ কার্ড’ নামক একটি কার্যক্রমকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে। সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৯০০ টাকা মূল্যের পণ্য প্যাকেজ ৭০০ টাকায় দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কার্ড বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে প্রতি কার্ডের জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
তবে পণ্য হাতে পাওয়ার পর অনেকেই দেখেন, সরবরাহ করা অধিকাংশ পণ্যই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম কম দামে ভালো পণ্য পাবো। কিন্তু পরে দেখি বেশিরভাগ পণ্যের মেয়াদ শেষ। এটা প্রতারণা ছাড়া কিছুই না।
ভুক্তভোগী রাশেদা বেগমও এ ঘটনার বিচার দাবি করে বলেন, আমগর টেহা নিয়া পচা সদাই দিছে, এই মেম্বার অনেক দিন যাবতই এসব কইরা যাইতাছে।
এ সময় বাঘবেড় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি মো. ইউসুফ মিয়া বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কাজ সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. লোকমান হোসেন বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি। শেরপুর থেকে ‘সহজ কার্ড’-এর লোকজন এসে আমাকে ১০০ টাকায় কার্ড বিক্রির কথা বলে। আমি তাদেরকে ঐভাবে চিনিও না। পণ্য যে মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল এ বিষয়টি আমি জানতাম না।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।