নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি: সিএফটি প্রতি ৭০ পয়সা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরে কর্মরত লোড-আনলোড শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সিএফটি প্রতি তিন টাকা ৩০ পয়সা করে দিচ্ছেন মালিকরা। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় এখন মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কর্মবিরতি দিয়েছে শ্রমিকরা। এতে, পরিবহনে লোড-আনলোড হচ্ছে না ভারত ও ভুটান থেকে আমদানীকৃত পাথর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে এ বন্দরের কার্যক্রম।
শ্রমিকরা জানান, সিএফটি প্রতি পাথর গাড়িতে লোড দিতে পারিশ্রমিক পান তিন টাকা ৩০ পয়সা। টন প্রতি গাড়িতে পাথর আনলোড করতে পারিশ্রমিক পান ৩১ টাকা এবং ডাম্পার গাড়ি থেকে পাথর আনলোড করতে শ্রমিকরা পান ২০০ টাকা। বর্তমানে জ¦ালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবধরণের পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই সিএফটি প্রতি ৭০ পয়সা ও গাড়িতে পাথর আনলোড করতে টন প্রতি ১৯ টাকা ও ডাম্পার গাড়ি থেকে পাপথর আনলোড করতে ২০০ টাকা করে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে সব সময়ই থাকতো ক্রাশার মেশিনের বিকট শব্দ, সেখানেই এখন চলছে সুনশান নিরবতা। যেখানে প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্য থাকার কথা সেখানে শ্রমিকরা তাঁদের দাবি আদায়ে রাস্তায় অবস্থান করছে। এই বন্দরে লোড-আনলোড শ্রমিক রয়েছে প্রায় সাত শতাধিক।
এদিকে কর্মবিরতির পর প্রশাসনের সহায়তায় মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের বৈঠক চলাকালে দুপুরে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শ্রমিকরা রাস্তায় মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান, জ¦ালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবধরণের পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আমাদের মজুরি বাড়েনি। অন্যান্য স্থলবন্দরে লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হলেও বাড়ানো হয়নি নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিকদের মজুরি।
নেতৃবৃন্দ জানান, মৌখিকভাবে বলার পর দুই দফায় চিঠি দিয়েও কোন সাড়া পাননি তারা। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি দেওয়া হলে প্রশাসনের সহায়তায় দুইপক্ষের মাঝে দুপুরে বৈঠক শুরু হয়। এসময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের চাঁদাবাজ বলে আখ্যা দেওয়ায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আমদানীকারক নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের অন্যান্য স্থবন্দরের চেয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে লোড-আনলোডে বেশি মজুরি দেওয়া হয়। বর্তমানে যে মজুরি দাবী করা হচ্ছে তা অযৌক্তিক। এসময় তারা এ কর্মবিরতিকে স্থলবন্দর অচল করার ষড়যন্ত্র বলেও দাবী করেন।
নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ জানান, তেলের দাম বাড়ার পর প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে চিঠি দিয়ে আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবী জানাই। এতে সাড়া না পেলে গত ৮ জুন চিঠির মাধ্যমে আবারও আমরা মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশকিছু দাবী-দাওয়া উল্লেখ করি। এতেও সাড়া না পেলে আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা কর্মবিরতিতে যাই। দুপুরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সহায়তায় আমদানীকারকদের সাথে এ নিয়ে বৈঠক শুরু হলে আমদানীকারকরা আমাদের চাঁদাবাজ বলেন। ফলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয় এবং বৈঠক ভেঙে যায়। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। একটি সিন্ডিকেটের হাতে স্থলবন্দর জিম্মি। আমরা উন্মুক্ত চাই।
নাকুগাঁও আমদানী-রফতানীকারক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, শ্রমিকদের দাবী আমরা সবসময় সহানুভুতির সঙ্গে বিবেচনা করি। তবে এবার তারা যে দাবী জানিয়েছে তা অযৌক্তিক। অন্যান্য বন্দরের মতোই আমরা মজুরি দিয়ে থাকি। কর্মবিরতির ফলে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হতে বসেছে। লোড-আনলোডের বাইরে অন্যান্য শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এর পেছনে কোন অশুভ শক্তি কাজ করছে বলে আমাদের ধারণা।