স্টাফ রিপোর্টার, তানিম আহমেদ : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে প্যারাগন ফিড মিলের বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে প্যারাগন কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলা হলরুম ‘তেপান্তর’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নালিতাবাড়ী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুজ্জামান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু সায়েম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুজ্জামান ইমরান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলা বিষয়ক সহ-সম্পাদিকা নিপুন নাহার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান লিটন, সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন (ভিপি), নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বলেন, “কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে। কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে এবং আমাদের অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান যেমন প্রয়োজন, তেমনি কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনোভাবেই কৃষকদের ক্ষতি করে শিল্প পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি তিনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্যারাগন কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাজমুল সাকিব। তিনি বলেন, প্যারাগন কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে রয়েছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়েই এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্যারাগন ফিড মিলের বর্জ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫৩ জন কৃষকের মাঝে এ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। মোট ১১৪ দশমিক ১৬ একর জমির ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। মোটা ধানের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ৬০ মণ উৎপাদন ধরে প্রতি মণ ৯০০ টাকা এবং চিকন ধানের ক্ষেত্রে প্রতি একরে ৫০ মণ উৎপাদন ধরে প্রতি মণ ১ হাজার ৪৫০ টাকা হিসেবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বক্তারা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নের দাবি জানান।