স্টাফ রিপোর্টার: নারীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূলে টেকসই বিনিয়োগ করি — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের নকলায় আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সিআইপিআরবি ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ।
সকালে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা। সঞ্চালনা করেন সিআইপিআরবির জেলা ফিস্টুলা ও এমপিডিএসআর কো-অর্ডিনেটর শারমিনা পারভীন।
এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রবাল সরকার পার্থ, মেডিকেল অফিসার ডা. সাগর সাহাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা নারীদের জন্য অত্যন্ত জটিল ও কষ্টদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা। সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো দক্ষ চিকিৎসাসেবা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা আরও বলেন, ফিস্টুলা নির্মূলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিনিধি, সিআইপিআরবি ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ফিস্টুলা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘসময় বাধাগ্রস্ত প্রসব বা জরায়ু ও তলপেটে জটিল অস্ত্রোপচারের পর অনেক সময় ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে। এ রোগের অন্যতম লক্ষণ হলো— প্রসবের রাস্তা দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সবসময় প্রস্রাব বা পায়খানা ঝরতে থাকা।