তানিম আহমেদ নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় টানা দুই দিন হঠাৎ রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকার বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এর আগে গত শনিবার ও রোববার রাতে হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাতে তারাবির নামাজ চলাকালে আকস্মিকভাবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং কাঁচা, টিনশেড ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নালিতাবাড়ী শহরেও কয়েকটি বাসাবাড়ির ইটের বাউন্ডারি দেয়াল ধসে পড়ে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
সিঙ্গুয়ারপাড় গ্রামের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকের ঘরের টিন ঝড়ের তোড়ে উড়ে গাছের ডালে কিংবা পাশের গ্রাম পর্যন্ত গিয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। রোববার রাতেও একইভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, ফলজ ও কাঠগাছের ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ইফতারের দাওয়াতে স্বপরিবারে অন্যত্র যাওয়ায় ঝড়ের সময় তারা আত্মীয়ের বাড়িতে আটকা পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার বসতঘর ঝড়ে উড়ে গেছে। বর্তমানে তাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই।
স্থানীয়রা আরও জানান, এমন ভয়াবহ ঝড়ের অভিজ্ঞতা তাদের আগে কখনো হয়নি। আকস্মিক এই দুর্যোগে তাদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ এলোমেলো হয়ে গেছে।
রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আজিজুল হক বলেন, আকস্মিক এই দুর্যোগে ঘরবাড়ির পাশাপাশি গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আল মামুন জানান, খবর পেয়ে তিনি রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদে তেমন ক্ষতি না হলেও সবজি ও ভুট্টা চাষে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।